
ভাস্কর সেনগুপ্ত
শরৎ কালের উৎসব কে শারদোৎসব বলে। এটি কারুর জন্মদিন হতে পারে। কারুর বিবাহবার্ষিকী হতে পারে। কারুর মৃত্যু দিন হতে পারে। যা খুশি হতে পারে যাকে আমি উৎসব হিসেবে মান্যতা দিতে চাই।
দুর্গাপূজো হচ্ছে একটি বিশেষ ঘটনা কে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে। স্মরন করা হচ্ছে। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে। শক্তি সঞ্চয় করা হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ করা হচ্ছে। প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আর একটু বিস্তার করার প্রয়োজন। মহিষাসুর সমগ্র জগতে ত্রাসের সঞ্চার করেছিল। লুট, খুন, অপহরণ, পূজো অর্চনায় বিঘ্ন সাধন বিভিন্ন উপায়ে সাধরন মানুষের জীবন বিধ্বস্ত করে তুলেছিল। দেবতারা অর্থ্যাৎ যারা মানুষের কল্যাণ চান তারা অত্যন্ত ক্রদ্ধ হলেন। তাদের নিজস্ব তেজ বিকীরণ করলেন। সেই সমগ্র দেবতার তেজ ঘনীভূত হয়ে মাতৃশক্তি রূপে আবির্ভূত হলেন। দেবতারা সকলে নিজ নিজ অস্ত্র দান করলেন সেই মাতৃশক্তিকে। যাকে আমরা মা দুর্গা বলি। তিনি সেই কালান্তক শক্তিকে নাশ করলেন।
যখনিই সেই অশুভ শক্তি আমাদের অস্তিত্ব নাশ করতে করাল বদনে আমাদের গ্রাস করতে আসে। আমাদের পদদলিত করে আমাদের সকল সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চায় তখনই আমরা দুর্গাপূজার মাধ্যমে সেই মহিষাসুর নিধন স্মরন করি। সংগঠিত হ ই। ঝাঁপিয়ে পরি আমাদের শৈর্য্য বীর্য কে বিস্মৃতির অতল গহ্বর থেকে উত্থিত করে স্বীয়গড়িমায় সমুজ্জ্বল হতে।
মহম্মদের মৃত্যুর একশত বছরের মধ্যে যারা এশিয়া,ইউরোপ, আফ্রিকা দখল করেছিল তাদের আমরা দীর্ঘ চারশত বছর ঢুকতে দিইনি। যেখানে সাতশো বছর রাজত্ব করলো সেখানে হিন্দুরা সংখ্যা গরিষ্ঠ ই রয়ে গেল। এ আমাদের দুর্গা পূজার শক্তি। যে বৃটীশদের সাম্রাজ্যে সূর্যাস্ত হতো না তাদের আমরা এই দুর্গাপূজার শক্তিতে ভারত থেকে বিতাড়িত করেছি।
স্বয়ং আকবরের মহল্লায় বসে বীর বাঙালি শঙ্করনাথ চক্রবর্তী দুর্গাপূজো করে এসেছেন। মাদুর্গার উদ্দেশ্য বঙ্কিমচন্দ্র যে বন্দেমাতরম ধ্বনি তুলেছিলেন তা সমগ্র ভারত কে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুর্গামার স্মরণে যে ভারতমাতার ছবি অঙ্কন করেছিলেন তার অঙ্কে গর্বিত ভারতের জন্ম হয়েছে।
দুর্গাপূজা তাই ভারত বিরুদ্ধ শক্তির কাছে ত্রাসের সঞ্চার করে।
দুর্গাপূজা কে শরদোৎসব বলে ভ্রান্তু মোহে বিমুগ্ধ হবেন না।
বলুন জয় মা দুর্গা। দু্র্গে দুর্গতিনাশিনী।








