ব্যাসদেবের অসন্তোষ ও নারদের নির্দেশনা

ড. শ্রীপতি দাশ

◦ মহাভারত ও বেদ বিভাজন করেও ব্যাসদেব মানসিক শান্তি পাচ্ছিলেন না [৩৮, ৩৯]।
◦ নারদ মুনি এসে জানান, ব্যাসদেব ধর্ম ও কর্মের কথা লিখলেও শ্রীকৃষ্ণের বিমল যশের কথা সেভাবে লেখেননি বলেই এই অসন্তোষ [৪০, ৪১]।
◦ নারদ নিজের পূর্বজন্মের কাহিনী শোনান—কীভাবে দাসীপুত্র হয়েও ঋষিদের সেবার মাধ্যমে এবং তাঁদের উচ্ছিষ্ট ভোজনের ফলে তিনি ভক্তি লাভ করেছিলেন [৪৪-৫০]।
◦ নারদ ব্যাসদেবকে শ্রীকৃষ্ণের লীলা বিষয়ক গ্রন্থ (ভাগবত) রচনার নির্দেশ দিয়ে বিদায় নেন [৫১]।
বিস্তারিত: বেদব্যাস মহাভারত ও অন্যান্য শাস্ত্র রচনা করার পরেও মনে মনে অতৃপ্ত ছিলেন। তিনি সরস্বতী নদীর তীরে বসে যখন নিজের এই অসন্তোষের কারণ খুঁজছিলেন, তখন সেখানে দেবর্ষি নারদের আগমন ঘটে। নারদ তাঁকে বলেন যে, তিনি ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ নিয়ে অনেক কিছু লিখলেও বাসুদেবের মহিমা বা অমল যশের কথা সেভাবে কীর্তন করেননি। কেবল জ্ঞান বা কর্মকাণ্ড মানুষকে পূর্ণ শান্তি দিতে পারে না, ভক্তিই হলো চিত্তশুদ্ধির মূল। নারদ নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, পূর্বজন্মে তিনি এক দাসীপুত্র ছিলেন। ঋষিদের সেবা ও তাঁদের উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করার ফলে তাঁর হৃদয়ে ভক্তির সঞ্চার হয় এবং তিনি ভগবানের দর্শন লাভের যোগ্যতা অর্জন করেন। নারদের উপদেশে ব্যাসদেব অনুপ্রাণিত হন এবং শ্রীকৃষ্ণের লীলা-মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য ভাগবত রচনার সংকল্প নেন।

মন্তব্য করুন