প্রেরণাদায়ী বোধকথা- ২৪৫ জ্ঞান-গুণ অবগুন

গোস্বামী তুলসীদাস একবার কাশীতে পণ্ডিতদের সাথে ভাগবত কথায় ব্যস্ত ছিলেন। তুলসীদাসের গ্রামের দুজন লোক গঙ্গায় স্নান করতে এসে দেখেন সেখানে একটা সৎসঙ্গ এবং ভাগবত আলোচনা চলছে, স্নান সেরে তারাও সেখানে বসলেন। দুজনেই তুলসীদাসকে চিনতে পেরেছিলেন। তারা একে অপরের সাথে কথা আলোচনা করে বলে যে- “ওহ! এতো, আমাদের গ্রামের রামবোলা। সে আমাদের সাথে খেলা করতো। দেখ! সে কিনা এখন কীভাবে ভগবৎ কথা বলছে, আর লোকেরা এত মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছে! এই সব কি?”

অন্যজন বলল – “হ্যাঁ ভাই, আমার মনে হয় সে একজন ছদ্মবেশী ভন্ড। দেখো সে কেমন সবজান্তা ভান করছে! আগে এমন ছিল না। আমাদের সাথে খেলার সময় সে কেমন ছিল, এখন ছদ্মবেশ পরিবর্তন করার পর এখন কেমন দেখাচ্ছে!”

তুলসীদাস তাদের চিনতে পেরে দুজনের কাছে এগিয়ে গেলেন, তাদের কুশল মঙ্গল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে গ্রামের খোঁজ খবর নিলেন। কিন্তু এরা বললো, “আরে! তুমি কী ধরণের বেশ ধরেছো? তুমি সবাইকে কিভাবে অন্ধকারে রেখে ভগবৎ কথায় মুগ্ধ করার চেষ্টা করছো। আমরা তো ভালো করেই জানি তোমার গুণ অতি সাধারণ।”
তুলসীদাস দুজনের অজ্ঞতার জন্য করুণা বোধ করলেন। তাঁর মুখ থেকে একটি পংক্তি বেরিয়ে এলো –
তুলসী বহাঁ না জাইয়ে, জন্মভূমি কে ঠাম।
গুন অবগুন চিন্হে নহী, দেয়ো পুরানো নাম।।
অর্থাৎ, একজন সাধু জন্মস্থানের গ্রামে যায় না। কারণ গ্রামের লোকেরা সাধুর শুধু পুরান কথায় রয়ে যায়। জ্ঞান-গুণ অবগুন চিনতে পারে না।

মন্তব্য করুন