ধ্যান প্রসঙ্গে

স্বামী_সোমেশ্বরানন্দ

ধ্যান করবো কিভাবে? মন বসতে চায় না সহজে!
অনেকেরই প্রশ্ন। বিশেষ করে নবীন সাধকদের। স্বামী মোক্ষদানন্দ মহারাজ বলতেনঃ “আগে বসতে শেখো। জপ-ধ্যানে মন বসুক আর নাই বসুক, তুমি আধঘন্টা বসে থাকো। মন দিল্লী-মুম্বাই যাক, ঘাড়ে গলায় শুরশুর করুক, বাইরে থেকে আওয়াজ আসুক, তুমি চুপ করে বসে থাকো। সকাল-সন্ধ্যায় এভাবে বসা প্র্যাকটিস করো আগে।”
স্বামী বেদান্তানন্দ মহারাজের কথাঃ “কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য না রেখে ধ্যান করো। চুপ করে বসে থাকো। মনকে শান্ত করার চেষ্টা কোরো না। চিন্তা আসুক কি নাই আসুক, তুমি বসে থাকো। নিজেকে সমর্পণ করে দাও ঠাকুরের কাছে। যা ঘটার তা নিজে-নিজেই ঘটুক। তুমি ধ্যান করছো, এ কথা ভুলে যাও। যেন স্টেশনে বসে আছো। ট্রেন লেট, কখন আসবে ঠিক নেই। তুমি অপেক্ষা করছো খোলা মন নিয়ে। বসে আছো প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে। ধ্যান করা মজার ব্যাপার। নানান চিন্তা এনে তুমিই মনকে disturbed করো — মনকে শান্ত করতে হবে, জ্যোতি দেখতে পাচ্ছি না কেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। বসে থাক না কেন চুপটি করে। ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দাও নিজেকে। সমর্পণ করে দাও ঠাকুরের কাছে।”

1■ চোখ বন্ধ করে বসুন। নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসকে অনুভব করতে থাকুন।
এবার শ্বাস নেওয়ার সময় মনে-মনে ওঁ বলতে থাকুন। আর শ্বাস ছাড়ার সময়ও ওঁ বলুন।
এভাবে ওঁ জপের সাথে-সাথে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন।

2■ বসে চোখ বন্ধ করুন। এখন কি দেখছেন? অন্ধকার। এই অন্ধকারকে দেখতে থাকুন।
এক মিনিট পরে ঐ অন্ধকারের মধ্যে চাঁদের কল্পনা করুন। পূর্ণিমার চাঁদ, গোল, উজ্বল। দেখে যান 3-4 মিনিট।

3■ ইষ্টের ছবি সামনে রেখে বসুন। এবার চোখ বন্ধ করে মানসনেত্রে ঐ ছবি দেখার চেষ্টা করতে থাকুন।
কিছুক্ষণ পরে কল্পনায় ছবিটি ম্লান হয়ে এলে চোখ খুলে আবার দেখুন ইষ্টের ছবি। তারপর চোখ বন্ধ করে পুনরায় মানসনেত্রে ইষ্টকে দেখে যান।
10-15 মিনিট এভাবে প্র্যাকটিস করুন।

●● উপরে দেওয়া পদ্ধতিগুলি একেবারে নবীন সাধকের জন্য। অভ্যাস করতে করতে, বহুদিন পর, যখন অনেকক্ষণ প্র্যাকটিস করতে পারবেন তখন মনের গভীরে যেতে পারবেন আপনি। নানা স্তরের অনুভূতি হবে।
■ চেতন
▪ আপনি ধ্যানে বসেছেন (বাইরের বিষয় নিয়ে সচেতন)।
▪ চোখ বন্ধ করে ধ্যানের চেষ্টা করছেন (বাইরে ও ভেতরে, দুটি বিষয়েই সচেতন)।

■ অবচেতন
▪ বাইরের অনুভব কমে গিয়ে ভেতর নিয়েই বেশি সচেতন আপনি। অতীত বা স্মৃতি এবং ভবিষ্যত বা কল্পনার চিন্তা আসছে মাঝে-মাঝে।
▪ যতই গভীরে যাচ্ছেন, বাইরের অনুভব দূর হয়ে (নিজের দেহবোধ বিলীন) ভেতরের চেতনাই প্রধান হয়ে উঠেছে।

■ অতিচেতন
▪বাইরের বিষয় একেবারেই নেই, চিন্তা ও আবেগ (thoughts and emotions) থেমে গেছে। ভেতরে নতুন জগতের রহস্য খুলে যাচ্ছে।
▪ শরীর-মনকে অতিক্রম করে নিজের বৃহৎ সত্তার অনুভব।

মন্তব্য করুন