শঙ্খধ্বনি, বাঁশির সুর, বেহালার সুর এবং গানের মধ্যে লোকায়ত সঙ্গীত, বাউল সঙ্গীত খুব ভালো লাগে। বাঁশির সুরে মনের একাগ্রতা আসে---মনকে গভীরে প্রবেশ করিয়ে দেয়। সানাই, খেয়াল---এসব আমার খুব একটা ভালো লাগে না যদিও খেয়াল ভালো---উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত। আর পটকার শব্দ, মাইকের শব্দ, মানুষের ঝগড়া, বাসের হর্ণ--- এগুলি পরিবেশ দূষণ করে। আবার ঝরনার শব্দ, বজ্রের শব্দ বা মেঘের গুরুগুরু আওয়াজ, বাচ্ছাদের কোলাহল, হরিনাম সংকীর্তনাদির সুর---- এগুলি প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখে---পরিবেশ ঠিক রাখে। বিশেষ করে ঝরনার শব্দের মধ্যে এমন একটা ছন্দ আছে যা সাধকের ধ্যানে বা চিন্তায় তন্মায়তা আনতে সাহায্য করে। আমি শিশিরপাতের শব্দ এবং ফুলফোটার শব্দ শুনতে পাই ---বাল্যকাল থেকেই এই অপূর্ব অনুভব হয়েছে। তবে এর জন্য গভীর মনঃসংযোগ দরকার।
আরাত্রিক প্রার্থনার সময় অনেকে প্রার্থনায় না বসে উল্টোপাল্টা আলোচনা, বাজে চিন্তা এবং হৈচৈ করে থাকে--এতে যেমন নিজের ক্ষতি, তেমনি অপরেরও ক্ষতি হয়। তাই ঐ সন্ধিক্ষণে হয় প্রার্থনায় বসতে হয় নয়তো ধ্যান--জপে মন বসুক বা না বসুক ওষুধ গেলার মতো তা করে যেতে হয়। বিশেষ করে সুর ও তাল সহযোগে সমবেত প্রার্থনায় যে উচ্চ ও জমাট ভাবের সৃষ্টি হয় তা প্রার্থনায় অংশগ্রহণকারী সকলের মনকেই ঊর্ধ্বগামী করে তোলে---তা যতই কাঁচা মন হোক না কেন, যেমন কর্দমাক্ত পথে একা চললে পড়ার ভয় থাকে কিন্তু হাত ধারাধরি করে চললে কারও পতনের ভয় থাকে না---সবাই পার হয়ে যেতে সক্ষম হয়। আবার দেখবে কারও ব্যক্তিগত জীবন খারাপ হলে তার সঙ্গে যারা থাকবে তাদেরও জীবন খারাপ হয়ে যাবে। সংক্রামক চর্মরোগের মতো নোংরা স্বভাবের লোক অপরকে তার কথা শোনাবে এবং তার চিন্তাও অপরের মনকে কলুষিত করবে। তাই কুচিন্তা বা ভাবও পরিবেশ দূষণ করে এবং পরোক্ষভাবে অপরের ক্ষতিসাধন করে থাকে। এই রহস্য যারা জেনেছে তারা কুচিন্তা ও কুভাবকে মনে স্থান দেয় না। এইজন্য শুভাশুভ চিন্তা ও কর্ম অনুসারে মানুষের জীবনও শুভাশুভ হয়ে থাকে।
স্বামী পরমানন্দ