
ঠাকুর বলেছেনঃ ‘ঈশ্বর কাজ দেখেন না, মন দেখেন।’ বেদান্তও কর্মযোগে এই কথা বলে। কোনো পুরোহিত যদি প্রণামী আর দক্ষিণা নিয়েই চিন্তামগ্ন থাকেন, তবে ২৪×৭ মন্দিরে পুজো-আরতি নিয়ে থাকলেও তিনি জাগতিক (material), মোটেই আধ্যাত্মিক (spiritual) নন। আর মহাভারতের ধর্মব্যাধ দোকানে বসে মাংস বিক্রি করলেও ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেছিলেন।
অতএব আপনি বাজারে না ক্লাবে, এর চেয়ে বড় কথা হলো কোন মানসিকতা নিয়ে আপনি ওখানে রয়েছেন, কাজ করছেন।
কিভাবে কাজের মধ্যে আধ্যাত্মিক মানসিকতা বজায় রাখা যায়, তার অনেক পদ্ধতি আছে।
মনে করুন আপনি বাজার করছেন। কোন মানসিকতা নিয়ে থাকবেন? জ্ঞানপথ বলবে, আলুওলা ও আপনি একই সত্তা বা চৈতন্যের দুই রূপ। এই ভাবটা রাখুন যতটা সম্ভব। ভক্তিপথ বলে, ঐ গরীব শাক-বিক্রেতাও শ্রীশ্রীমায়ের সন্তান, এটা মনে রাখুন। যোগমার্গ নির্দেশ দেয়, কোনো অবস্থাতেই উত্তেজিত না হয়ে শান্ত মনে কাজ করো। আর কর্মযোগ বলে, শুধু নিজের স্বার্থ নয়, বিক্রেতার কথাও ভাবো।
খুব সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলাম এখানে।
সংসার, অফিস, বাজার, ক্লাব, সবকিছুই মন্দির। যেখানেই থাকুন, যে-কাজই করুন, সাধনা করছেন মুক্তির জন্য। এই মানসিকতা গড়ে তুলতে পারেন?
সংসার যেন ঠাকুরের সংসার। ভরতের মতো আপনি সিংহাসনে তাঁর পাদুকা রেখে সংসার পরিচালনা করছেন। মাঝে-মাঝেই এমন ভাবতে পারেন?
অফিসে গ্রাহক ও সহকর্মীদের নিজের আত্মজন মনে করে কাজ করা সম্ভব? কিংবা চেষ্টা করে দেখুন, নেগেটিভ পরিবেশে আপনি কতটা পজিটিভ থাকতে পারেন চিন্তায় ও কর্মে।
এরকম বিভিন্ন ভাবে নিজের মধ্যে আধ্যাত্মিক মানসিকতা রেখে দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন? আপাতত মাঝে-মাঝে এ-রকম অভ্যাস করুন। অনেকে কাজের সময় মনে-মনে জপ করেন।
এক পদ্ধতি রোজ করতে একঘেয়ে লাগলে এক-একদিন একেক রকম অভ্যাস করতে পারেন। আমাদের গ্রুপে রোজ এমন অনুশীলন দেওয়া হয়, একেকদিন এক-একরকম।
এক সিদ্ধ-পুরুষের সাথে আমার পার্থক্য কি? দুজনে একই জগৎ দেখছি। তবে তিনি দেখছেন আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে, আর আমি দেখি জাগতিক দৃষ্টিতে।
আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেখা তার স্বভাব হয়ে গেছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা নয়। তাহলে আমি কি করবো? প্রতিদিন মাঝে-মাঝে চেষ্টা করবো বিভিন্ন পরিস্থিতিতে জগত্কে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেখার। এভাবে আমার মধ্যে নতুন সংস্কার গড়ে উঠবে। এটাই তখন হয়ে উঠবে সাধনা, দৈনন্দিন কাজের মধ্য দিয়ে। গুরু-নির্দিষ্ট সাধনা দূ’বেলা তো আছেই, এর সাথে এই নতুন অনুশীলন আমাকে আরও গতি দেবে এগিয়ে যেতে।








