স্বামী অদ্ভুতানন্দ প্রসঙ্গ–স্বামী সিদ্ধানন্দ

সংসারে মাতা-পিতার মত গুরু আর কেউ নেই। সদ্‌গুরু ইষ্টের পরই তাঁদের স্থান। তাঁদের বাদ দিয়ে ধর্ম ষোল আনা পূর্ণ হয় না। শঙ্করাচার্য, চৈতন্যদেব, আমাদের ঠাকুর এ সব অবতার-পুরুষদের জীবন দেখলেই বুঝতে পারবে। তাঁদের (মাতা-পিতার) জন্য এঁরা কি-না করেছেন? মার অনুমতি না নিয়ে সন্ন্যাস পর্যন্ত নেননি। ঠিক ঠিক ধর্মলাভ করতে হলে এঁদের জীবন মানতে হবে।
ভগবানের কাছে কিছু চাইতে নেই। কারণ তিনি সবই জানেন। তিনি কোথা দিয়ে কি রকম করে যে ভক্তের অভীষ্ট পূরণ করেন তা ভাবতে গেলে অবাক হতে হয়। ঠিক্ ঠিক্ ভক্তের জীবনে এরূপ অলৌকিক ঘটনা কতই ঘটে থাকে। কিন্তু ঠিক্ ঠিক্ ভক্ত হওয়া বড়ই কঠিন। যারা নামে ভক্ত তারা ভোজনে খুব মজবুত -ভজনে নয়। তাই তারা আত্মার উন্নতি করতে পারে না। হৈ-হৈ করে বৃথা জীবন কাটিয়ে দেয়! যারা ঠিক্ ঠিক্ ভক্ত হতে চায় তারা হৈ-হৈ মোটেই ভালবাসে না। তারা নির্জনে ভগবানকে ডাকে। ঠাকুর মাঝে মাঝে গাইতেন -“মন, যতনে হৃদয়ে রেখো আদরিণী শ্যামা মাকে -মাকে তুমি দেখ আর আমি দেখি আর যেন কেহ নাহি দেখে।”
মানুষ আবার কি চণ্ডাল ব্রাহ্মণ হয়ে জন্ম নেয় নাকি? এ সব কর্মগত সংস্কার। গীতাতে শ্রীভগবান বলেছেন -“গুণকৰ্ম্মবিভাগয়োঃ” কর্মের দ্বারা গুণ আবার গুণের দ্বারা বিভাগ। কর্মই সব -শুভ কর্মের দ্বারা সুসংস্কার হয়। মহাপ্রভু বলেছেন -“চণ্ডালোঽপি দ্বিজশ্রেষ্ঠঃ হরিভক্তিপরায়ণঃ”। .

মন্তব্য করুন