
স্বামী বাসুদেবানন্দ
কাশী থেকে বেলুড়ে ফেরবার দিন বাবুরাম মহারাজ বললেন,”চল,পুস্পদন্তেশ্বর দর্শন করে আসি। এঁর দর্শন করলে বাবা বিশ্বনাথের মন্দিরাদির নির্মাল্য মাড়ানোর পাপ হতে মুক্ত হওয়া যায়।
পুস্পদন্ত বলে এক গন্ধর্বরাজ রোজ গোপনে কাশীরাজের বাগান থেকে গভীর রাত্রে পুষ্প চয়ন করে বিশ্বনাথের পূজা করতো। রাজকুমারী রোজ ভোরে পুষ্প চয়ন করতে গিয়ে দেখেন যে,তাঁর আগেই কে বাগানের সব চাইতে সেরা ফুলগুলি তুলে নিয়ে গিয়েছে।তিনি পিতার কাছে এ ব্যাপার নিবেদন করলেন।রাজা পাহারা দিয়ে বাগান সারারাত ঘিরে রাখলেন, রাজকুমারিও গোপনে আড়িপেতে বসে রইলেন।,দেখলেন শেষ রাতে এক অপরূপ গন্ধর্বরাজ পুষ্প চয়ন করছেন।তিনি শান্ত্রীদের ইঙ্গিত করতেই তারা তাকে চারিপাশ থেকে ঘিরে ধরবার চেষ্টা করলে,কিন্তু গন্ধর্বরাজ শূন্য মার্গে চলে গেলেন।
রাজা খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লেন রোজই অবশিষ্ট উচ্ছিষ্ট পুষ্পে পূজা হয়। তখন মন্ত্রী বললেন,”মহারাজ এক কাজ করুন,শিবনির্মাল্য বাগানে ছড়িয়ে রাখুন,পায়ে ঠেকলেই গন্ধর্বের বিভূতি নষ্ট হয়ে যাবে,সে তখন আপনার অধীনস্ত হবে।”রাত্রে গোপনে তাই করা হলো। পুষ্পদন্ত গন্ধর্বরাজের,নিয়মিত পুষ্প চয়ন করতে এসে শিবনির্মাল্য বিল্বপত্রে পাদস্পর্শ হলো। আকাশমার্গে যেতে গিয়ে দেখেন তাঁর আকাশ গমনশক্তি রুদ্ধ হয়ে গেছে;কি হবে! এখন তো রাজার সান্ত্রীরা জাগ্রত হয়ে পড়বে। তিনি তখন একাগ্র মনে ভক্তির সহিত শিবস্তুতি করলেন। এই স্তবই হচ্ছে বিখ্যাত ‘শিবমহিম্ন’ স্তোত্র
কুসুমদশননামা সর্বগন্ধর্বরাজঃ
শিশুশশধরমৌলেদেবদেবস্য দাসঃ।
স খলু নিজমহিম্নো ভ্রষ্ট্র এবাস্য রোষাৎ
স্তবনমিদমকাষীদ্ দিব্যদিব্যংা মহিম্ন।।৩৪
“সর্বগন্ধর্বরাজ কুসুমদশন শিশুশশধরমৌলি দেবদেব মহাদেবের দাস।নির্মাল্য পাদস্পর্শ হেতু শিব রোষে নিজ মহিমা হতে ভ্রষ্ট হয়ে মহিমান্বিত এই দিব্যদিব্য স্তব করেন।”
তাতে আবার তাঁর দিব্য বিভূতি ফিরে আসে। তিনি আবার শুন্যে অন্তর্হিত হলেন।যারা কোনো বন্ধনে পড়ে, তারা এই স্তব পাঠ করলে বন্ধনমুক্ত হয়।এই স্তব খুব পাঠ করবি।
ঠাকুরের সর্বধর্মসমন্বয়ের শ্লোকটিও এই স্তবে আছে;ত্রয়ী সাংখ্যং যোগঃ পশুপতিমতং বৈষ্ণবমিতিইত্যাদি।
শিবমহিম্নস্তোত্রের আর একটি শ্লোক একদিন পাঠ করতে করতে ঠাকুর এমন ভাববিহ্বল হন যে পুঁথি ফেলে দিয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন,”ওগো শিব!,তোমার মহিমা কে জানবে বল” চিৎকার ও কান্না শুনে দারোয়ান লোকজন সব ছুটে এসেছিল অসিতগিরিসমং স্যাৎ কজ্জলং সিন্ধুপাত্রে এই শ্লোক।








