ডাঃ দেবাশীষ কুন্ডু
বিশ্ব রাজনীতির আকাশে অদৃশ্য এক ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশিত নথি, রাষ্ট্রনায়কদের রহস্যময় সংশ্লিষ্টতা, এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোগোতে শয়তানের প্রতীকী ছায়া; সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে: পৃথিবীর ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে কি সত্যিই শয়তানপূজারী ইলুমিনাতি গোষ্ঠীর গোপন হাত রয়েছে?
এই প্রতিবেদনে আমরা অনুসন্ধান করব সেই অন্ধকারের জাল, যার উত্তর হয়তো লুকানো আছে প্রতীকের রহস্য, গোপন সভার অগ্নিকুণ্ড, প্রযুক্তির অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ, এবং মানুষের আতঙ্কের গভীরে।
জেফ্রি এপস্টেইনের দ্বীপ ছিল কেবল বিলাসবহুল অবকাশযাপন কেন্দ্র নয়, বরং এক অদ্ভুত আচার-অনুষ্ঠানের মঞ্চ। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিকৃত যৌনাচারের সাথে সেখানে রাতের অন্ধকারে জ্বলে উঠত অগ্নিকুণ্ড, বাজত অদ্ভুত সঙ্গীত, আর উচ্চারিত হতো গোপন মন্ত্র।
নথিতে উঠে আসা নামগুলো বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছিল। রাষ্ট্রনায়ক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি জগতের মহারথী, সবাই নাকি সেই দ্বীপে উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের দাবি, এপস্টেইনের দ্বীপে শুধু অনৈতিক কর্মকাণ্ডই হয়নি, বরং সেখানে ছিল অদ্ভুত প্রতীক, অগ্নিকুণ্ড, এবং গোপন মন্ত্রপাঠ। প্রতিটি নাম আসলে ইলুমিনাতির গোপন সভার অতিথি তালিকার সঙ্গে মিলে যায়। দ্বীপের দেয়ালে আঁকা প্রতীকগুলো নাকি শয়তানের চোখের প্রতিরূপ। আমেরিকার রাষ্ট্রীয় লোগোর সাথে ইলুমিনাতি র লোগোর সাদৃশ্য চোখে পড়েনি এমন মানুষ খুব কমই আছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লোগোকে চিকিৎসার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্রতত্ত্বকারীরা বলেন, এটি আসলে শয়তানের প্রতিরূপ। গুগলের কিছু অ্যাপ্লিকেশনের লোগোতে রঙ ও আকৃতির বিন্যাস নাকি শয়তানের প্রতীকী ছায়া বহন করে। পাকিস্তানের ISI-এর লোগোতে ব্যবহৃত প্রতীক কাকতালীয়ভাবে শয়তানের মুখের আকৃতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আগ্রহী পাঠকরা কাজী ম্যাকের হাজার বছরের অব্যক্ত শয়তানের গল্প বইটি পড়তে পারেন । শয়তানের যন্ত্র বা ফটো দেখুন বাঁদিকে আর ডানদিকে পাকিস্তানের ISI এর লোগো। আবার ডান দিকের ছবিতে শয়তানের যে যন্ত্র, যার মাধ্যমে ব্ল্যাক ম্যাজিক করা হয় সেখানে দেখুন 666 নাম্বার কে ব্যবহার করা হয়েছে। এই জন্য প্রত্যেক শিখরে ওঠা মানুষকে দুটো সিম্বল সব সময় দেখাতে দেখবেন (সিঙ্গার অভিনেতা খেলোয়াড় সে যেই হোক) প্রথম হলো ত্রিভুজের মধ্যে একটা চোখ, দ্বিতীয় হলো 666 নাম্বারের সিম্বল।
আব্রাহামীকদের মধ্যে প্রথম হল জিউসরা তাদের থেকে এসেছিল ক্রিশ্চানরা । বারবার ইন্টার ডাইমেনশনাল ব্রিডিং হয়েছে। ত্রেতা যুগ থেকে, যেমন বিষস্রোবা মুনির সঙ্গে রাক্ষসের কন্যা কেকোষী তার ফলে জন্ম রাবন এবং তার ভাইবোনেদের। যখন কোন ব্রহ্মাণ্ডীয় উর্জাকে উল্টো ঘোরানো হয় এবং যখন কোন জ্যোতির্লিঙ্গের দ্বারা পৃথিবীতে ব্রহ্মাণ্ড থেকে ইতিবাচক শক্তি প্রবাহিত হচ্ছে যদি তার থেকে তার উর্জ্জা বা শক্তিকে দূরে করা হয়। তখন ধনাত্মক শক্তির বদলে ঋণাত্মক শক্তি প্রবাহিত করে। এর মানে হলো একটি বৃহৎ শক্তিপুঞ্জ কে ব্যবহার করে নরকের দরজা বা ডার্ক ইউনিভার্স খোলা হয়েছে। আমরা মানুষরা হলাম মাতা আদিতি বা দেবতাদের সন্তান। যদিও বিভিন্ন ইন্টার ডাইমেনশনাল ব্রিডিং এ সকলের ডিএনএ খারাপ হয়ে গেছে তবুও আজও পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের সনাতনীরা কিছুটা হলেও দেবতার ডিএনএ তে বিলং করে। স্বভাবতই অসুরদের ও রাক্ষসদের সন্তানরা চায় পৃথিবীকে দখল করতে।
বিশেষ জায়গায় স্পেস ও টাইম কে হাতিয়ার করে হোয়াইট হোল বা পোর্টাল খুলে এসেছিল রাক্ষসেরা/ রেপটিলিয়ান এবং এদের খাদ্যই হল মানুষ এই জন্য পৃথিবীতে এত শিশু হারিয়ে যাচ্ছে বাকি এপস্ট্রিম ফাইলের ভিডিও তো সব বলেই দিয়েছে। এরা মানুষের মাংস খায় আপনার বিশ্বাস হোক আর না হোক এবং শয়তানের পূজারী সে কারণে শিশুদের বলি দেয় এবং শয়তানের প্রসাদ হিসেবে তারা মানুষের মাংস গ্রহণ করে।
এই অধ্যায়ে প্রতিবেদক প্রতিটি প্রতীককে বিশ্লেষণ করেন, প্রতীকবিদদের মতামত তুলে ধরেন, এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্বকারীদের দাবিকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করেন। প্রতীকগুলোকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল ও আতঙ্ক বাড়তে থাকে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা দাবি করছেন, বিশ্বের শীর্ষ নেতারা গোপনে একত্রিত হন এপস্টেইনের দ্বীপে । সেখানে সভায় নাকি সিদ্ধান্ত হয়; কোন দেশে যুদ্ধ হবে, কোথায় মহামারী ছড়াবে, আর কোন প্রযুক্তি বাজারে আসবে। কোভিড 19 বিশ্বে কি ভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল সেটা আশা করি ভুলে যান নি । এমনই খবর কয়েকদিন যাবৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় আসছে যেখানে বলা হচ্ছে যারা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য বা নিজেদের শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য দুটো ডোজ সফলভাবে নিয়েছেন তাদের অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধা শুরু করেছে অনেক রোগ ।
কল্পনা করুন সেই বীভৎস দৃশ্য, শয়তানকে উৎসর্গ করা শিশু নারীদেহের মাংস ভক্ষণ করা হচ্ছে আর অগ্নিকুণ্ডের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতারা, মুখোশে ঢাকা চেহারা, আর গোপন মন্ত্রপাঠ। সভার শেষে নাকি প্রতিটি নেতাকে একটি প্রতীকী আংটি দেওয়া হয়, যা তাদের গোপন সদস্যপদ নিশ্চিত করে।
ইলুমিনাতি নাকি শুধু রাজনীতি নয়, প্রযুক্তিকেও নিয়ন্ত্রণ করছে। গুগল, মেটা, এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেটাবেসে তাদের গোপন কোড লুকানো আছে। এই কোডের মাধ্যমে তারা মানুষের চিন্তা, অভ্যাস, এমনকি স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলেন, প্রতিটি অ্যালগরিদমে লুকানো আছে অদৃশ্য নির্দেশনা, যা মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইলুমিনাতি নাকি মানুষের মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে প্রযুক্তির মাধ্যমে।
বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, প্রতিটি মহামারী, প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব আসলে ইলুমিনাতির পরিকল্পনার অংশ। আবার অনেকেই এটিকে নিছক কল্পনা বলে উড়িয়ে দেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, জনআস্থার সংকট, এবং মানুষের ভয় তুলে ধরা হয়েছে। কেউ কেউ প্রতিবাদে নেমেছেন, আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করছেন যে ইলুমিনাতি সত্যিই পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করেন, প্রমাণ লুকানো হয়েছে, আর প্রতিটি প্রতীকই ইঙ্গিতবাহী। আগামী দশকে ইলুমিনাতি আরও শক্তিশালী হবে। তারা প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের চিন্তা নিয়ন্ত্রণ, আর বিশ্ব রাজনীতি , বিশ্ব স্বাস্থ্যনীতি, প্রযুক্তি, এমনকি মহাকাশ অভিযানের সিদ্ধান্তও নিয়ন্ত্রণ করবে।