সহস্রদীপোদ্যানের দিনগুলি কৃতজ্ঞতাঃ বেলুড় মঠ।
আমাদের ভিতরে যে দিব্যত্ব, যে ঈশ্বরীয় গুণগুলো রয়েছে, সেই দিব্যত্ব আমাদের শরীর, মন দিয়ে বিভিন্নভাবে বেরিয়ে আসে। বিদেশ থেকে স্বামীজী প্রথমবার ভারতে ফিরছেন। আসার পথে কিছু সময়ের জন্য জাহাজ কায়রো বন্দরে দাঁড়ায়। স্বামীজী ও তাঁর সঙ্গীরা কায়রো শহর দেখার জন্য জাহাজ থে্কে নেমে শহরের দিকে চলেছেন। যেতে যেতে তারা ভুলে অন্য পথ ধরে এগিয়ে যেতেই একটা রেড লাইট এরিয়ার মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। সঙ্গীরা বুঝতে পেরে স্বামীজীকে সরিয়ে নিয়ে অন্য পথে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই মেয়েগুলো তাদের দেখে খিল খিল করে হাসাহাসি করতে লাগল। ওদের মত নানা রকম ইশারা করে অঙ্গভঙ্গী করতে শুরু করল। স্বামীজী ওদের দেখে করুণায় আপ্লুত হয়ে গেলেন। ওদের মধ্যে যারা বেশি অঙ্গভঙ্গী করছিল, স্বামীজী তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন। স্বামীজীর চোখে জল এসে গেছে। সঙ্গীদের বলছেন, আহা! এরা এদের নিজেদের দিব্যত্বকে কিভাবে পুরোপুরি শরীরে ঢেলে দিয়েছে। আর আজ দেখ এদের কি দূরবস্থা। যারা শরীরকেই আত্মা মনে করে, তারা শরীরের প্রতি সবকিছু ঢেলে দেয়, শরীরকেই সাজায়। শরীর ছাড়া কিছু বোঝেনা। ওই শরীর দিয়ে তারা অর্থ উপার্জন করছে, ওই শরীর দিয়ে সবকিছু ভোগ করছে। কয়েক দিনের মধ্যেই শরীরটা ভেঙে যাবে। সেও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে শেষ হয়ে যাবে। স্বামীজীর ব্যক্তিত্বের এমনই প্রভাব যে মেয়েগুলো স্বামীজীর পায়ের তলায় হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে গেল। ওদের চোখেও জল। স্বামীজীর পোশাক ছুঁয়ে স্প্যানিশ ভাষায় বলে যাচ্ছে Man of God।
যে দিব্যত্ব একজন সাধু মহাত্মার ভিতর থাকে, সেই দিব্যত্বই একজন বিজ্ঞানীর ভেতরে, সেই দিব্যত্বই একজন কবির ভেতরে, সেই দিব্যত্ব আমার আপনার সবার ভিতর সব সময় সমানভাবে বিদ্যমান। এই জিনিসটিকে স্বামীজী এখন সত্ত্বগুণ, রজোগুণ আর তমোগুণ দিয়ে ব্যাখ্যা করছেন।
স্বামীজী বলছেন The world is our fish basket, we must not depend upon it for enjoyment. Those who do are the Tamasas or the bound. এই সংসার আঁশ চুবড়ির মত। আমরা যেন সুখ ভোগের জন্য ওর উপর নির্ভর না করি। যারা করে তারা তামস প্রকৃতি বা বদ্ধ জীব। এই সংসার আর এর আশেপাশে যা কিছু আছে এটা হল মাছের চুবড়ি। আমাদের যত রকম আনন্দ আছে সব আনন্দের জন্য আমরা ওই মাছের আঁশ চুবড়ির উপর নির্ভর করি, একটু জল ছিটিয়ে দিলে যে আঁষটে গন্ধ বেরোবে, সেই গন্ধতেই আমাদের আনন্দ। এর দ্বারা আমরা নিজেদের নষ্ট করি।