দেবাশীষ কুন্ডু :
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পোস্টমর্টেম করলে দেখা যায়, রাজনীতির মঞ্চে আদর্শের জায়গা ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে। একসময় বামপন্থী আন্দোলনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে এখন কথোপকথনের মূল সুর—আদর্শ নেই, শুধু ক্ষমতার লড়াই।
তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে যে ধীরে ধীরে গৈরিকীকরণের ছায়া বিস্তার করছে, তা আর গোপন নেই। ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দুটি দলকে অনেকেই বিজেপির “টিম বি” হিসেবে দেখছেন। এর ফলে তৃণমূলের ভেতরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির কৌশলগত পরিকল্পনা—যাকে অনেকেই অমিত শাহের ব্লুপ্রিন্ট বলে অভিহিত করছেন—এর মাধ্যমে তৃণমূলের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে নেতাদের “ওয়াশিং মেশিনে” ঢুকিয়ে জনবিচ্ছিন্ন অবস্থান থেকে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের মূল নেতৃত্ব—মমতা বন্দোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দোপাধ্যায়, কুনাল ঘোষ প্রমুখ—কেন আলাদা করে অচ্ছুৎ হয়ে থাকবেন, সেই প্রশ্ন জনমনে তীব্র হয়ে উঠছে।
অভিযোগের তালিকা—পনেরো বছরের অপশাসন, আর্থিক দুর্নীতি, শিক্ষা কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন—আজ ভোটারদের কাছে যেন আর কার্যকর যুক্তি নয়। বরং এগুলোকে অনেকেই “ঠুনকো” ও “হাস্যকর” বলে মনে করছেন। ফলে ভোটারদের মনে বারবার প্রতারণার অনুভূতি জন্ম নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে ফেলেছে। একদিকে তৃণমূলের ভেতরে গৈরিকীকরণের প্রবাহ, অন্যদিকে বিজেপির কৌশলগত প্রভাব—দুটো মিলে রাজনীতির মঞ্চে আদর্শের মৃত্যু যেন নিশ্চিত করছে।
কবির অনুপ্রেরণায় বলা যায়—
“বারে বারে সে যেন ছল করে আমারে!”
অর্থাৎ, প্রতিবারই ভোটাররা প্রতারিত হচ্ছেন, আর রাজনীতির নাটক একই রকমভাবে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।