কোনো শিশু বা কিশোরকে বড় করে তুলতে গিয়ে আপনি দু'রকম দৃষ্টিভঙ্গি নিতে পারেন -- বাবার কিংবা শিক্ষকের। বাবা তাকে নিজের বলে ভাবেন, অবচেতন মনে কোথাও যেন একটা অধিকারবোধ রয়েছে। শিক্ষকের তা নেই। তার কাছে ছাত্র যেন এক আমানত, গচ্ছিত প্রাণী। ছেলে ও মেয়ে দুজনকে বড় করে তোলেন মা-বাবা, কিন্তু ছেলে যেন নিজের, সারা জীবনের, তাই আশাও বেশি। কিন্তু মেয়ে যেন তা নয়, কয়েক বছরের জন্য শুধু, পরে সে নিজের ঘরে চলে যাবে। তাই মেয়ে তাকে বৃদ্ধবয়সে দেখবে এমন আশা মা-বাবা করেন না। পার্থক্যটা ভালভাবে লক্ষ্য করুন। কারণ সমস্যার মূল এখানেই রয়েছে, সমাধানেরও।
শিক্ষা হবে গুরুকুলে, ব্রহ্মচর্যাশ্রমে। গুরুকুলের সব ব্যবস্থা রাজা করে দিতে পারেন রাজপ্রাসাদে। মহাভারতে কুরু-পান্ডবদের ক্ষেত্রে এটা দেখা যায়। কিন্তু সাধারণ নিয়ম হলো ছাত্রকে যেতে হবে দুরে শিক্ষকের কাছে। অর্থাৎ সন্তানকে মানুষ করতে হবে শিক্ষক হিসেবে, মা-বাবা হিসেবে নয়। অধিকারবোধ থাকলে কাজটা কঠিন হয়।
সন্তানকে মানুষ করা হলো একটি ছোট গাছকে বড় করে তোলা। আপনি জল দিন, সার- আলো- বেড়া দিন, কিন্তু গাছ বাড়বে নিজের নিয়মে। আপনি তাকে টেনে বড় করতে পারেন না, order দেওয়া সম্ভব নয়।
আপনি তাকে শেখাতে চান বর্তমানের জ্ঞান দিয়ে, কিন্তু সে মুখোমুখি হবে ভবিষ্যত পৃথিবীর। তাকে face করতে হবে নতুন challenge, নতুন সমস্যা, অন্য ধরণের পরিস্থিতি যা হয়তো আজ আমি-আপনি কল্পনাও করতে পারবো না।
আপনি কি তাকে এটা শেখাচ্ছেন? উপদেশ দিয়ে নয়, জীবনে উদাহরণ দেখিয়ে? পলিটিশিয়ানরা মনে করে জনসাধারণের কিসে কল্যাণ হয় সেটা জনতার চেয়ে আমরাই ভাল বুঝি। আমরা বড়রাও কি এই ভুলই করছি? এক শিশু সবসময় আনন্দে ঝলমল, হাসছে, সে কৌতূহলী নতুন বিষয়ে। সেই শিশুই বৃদ্ধবয়সে নিরানন্দ, দুঃখী, কোনো নতুন বিষয়ে উৎসাহী বা কৌতূহলী নয়। কেন এমন হয়? তবে কি জীবনটাই ব্যর্থ?
শিশু বা কিশোর শেখে উদাহরণ দেখে, বাস্তব জগতকে দেখে। উপদেশ বা মুখের কথায় নয়।
Parenting বিষয়ে অনেক বই রয়েছে। দেখে নিন। দিল্লী ও মুম্বইয়ে অনেক ক্লাস নিয়েছি। তার পুনরাবৃত্তি না করে এখানে আমাদের অভিজ্ঞতাই বললাম।
মনে রাখবেন, আপনার ছেলে-মেয়েকে নিজের পথ নিজে চলতে হবে। জীবনের challenge face করতে হবে। আজ তাই তাকে experiment করতে দিন, হারতে দিন জিততে দিন, হাঁসতে-কাঁদতে দিন। আঘাত ব্যথা দুঃখ পেতে দিন। সে শিখুক স্বাধীনভাবে চলতে, নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে। অভিযোগ আর অজুহাত না দিয়ে পালন করুক গীতার বাণী "উদ্ধরেত্ আত্মনা আত্মান্ং," নিজেকে নিজেই উদ্ধার করো।