লেখক–প্রকাশক যৌথ উদ্যোগের নেপথ্যে তরুণ প্রতিভাদের নির্লজ্জ শোষণ

বিশেষ প্রতিনিধি

কলকাতা বইমেলা—সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এক উৎসব, লেখক-প্রকাশক-পাঠকের মিলনক্ষেত্র। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার দিক। অসাধু প্রকাশকরা তরুণ প্রতিভাদের স্বপ্নকে হাতিয়ার করে অর্থ উপার্জনের ফাঁদ পেতেছেন।
প্রতারণার কৌশল
– মোহময় বিজ্ঞাপন: “বইমেলায় প্রকাশিত হবে আপনার বই”—এই স্লোগানেই তরুণ লেখকরা আকৃষ্ট হন।
– চুক্তিপত্রহীন প্রকাশনা: কোনো লিখিত চুক্তি হয় না, ফলে লেখকরা আইনি সুরক্ষা পান না।
– ফোনে লেনদেন: প্রকাশকরা ফোনে পুরো প্রক্রিয়া সারেন, যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে।
– অর্থনৈতিক শোষণ: প্রকাশনা বাবদ খরচ লেখকের কাছ থেকে নেওয়া হয়, অথচ বিপণন বা প্রচারের কোনো পরিকল্পনা থাকে না।

ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা
এক তরুণ কবি জানালেন—
> “আমার প্রথম কবিতার বই প্রকাশের জন্য ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিল প্রকাশক। বইমেলায় বই বেরোলেও পরের বছর আর কোথাও খুঁজে পাইনি। রয়্যালটির নামও শুনিনি।”

অন্য এক লেখিকা বললেন—
> “চুক্তিপত্র চাইলে প্রকাশক বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বাসে কাজ করি।’ পরে বুঝলাম বিশ্বাসের নামে প্রতারণা।”

বাজারে প্রভাব
– বইমেলায় প্রকাশিত বহু বই এক বছরের মধ্যেই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়।
– তরুণ লেখকরা হতাশ হয়ে লেখালেখি থেকে দূরে সরে যান।
– পাঠকরা নতুন প্রতিভার বই খুঁজে পান না, ফলে সাহিত্য জগতে ক্ষতি হয়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীরবতা
কলকাতা বইমেলার আয়োজক ও প্রকাশনা সংস্থাগুলির নিয়ন্ত্রক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তাদের হস্তক্ষেপ না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়ছে।
কলকাতা বইমেলার চাকচিক্যের আড়ালে তরুণ প্রতিভাদের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। সাহিত্যিক পরিবেশকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন কঠোর নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ চুক্তিপত্র, এবং লেখকদের অধিকার রক্ষার উদ্যোগ। না হলে বইমেলার উজ্জ্বল আলোয় প্রতারণার ছায়া আরও ঘন হবে।

মন্তব্য করুন