
ডাঃ দেবাশীষ কুণ্ডু
এই তথ্য খুব কম মানুষ কে জানানো হয় যে সিজারে শুধু এক জায়গা নয়—৭টা স্তর কাটা হয় ত্বক → চর্বি → মাংস → স্নায়ু → পেশি → জরায়ু → ভেতরের আস্তরণ, তাই ব্যথা শুধু সেলাইয়ের জায়গায় না, ভেতর ভেতর অনেকদিন ধরে ব্যথা থাকে , এই কথাটা প্রায় কেউ বলে না। “ব্যথা ঠিক হয়ে যাবে” — কিন্তু নার্ভ ড্যামেজ হলে? সিজারের সময় ছোট ছোট স্নায়ু কেটে যায় । ফলাফল: হঠাৎ জ্বালা পিন ফোটার মতো ব্যথা ছুঁলেই ব্যথা মাসের পর মাস কোমর–পেট ব্যথা। এটাকে অনেক সময় বলা হয়— “আপনার মাথার ব্যথা” কিন্তু আসলে এটা নার্ভ ইস্যু । সিজারের পর ভেতরে অস্ত্রোপচারের জায়গায় আঠালো পদার্থ তৈরি হয় এটা সবচেয়ে অবহেলিত সত্য। অপারেশনের জায়গায় ভেতরের অঙ্গগুলো একে অপরের সাথে লেগে যায়। এর ফল: উঠলে বসলে , চলাফেরা করলে টান, এক পাশে ব্যথা ,পরের পিরিয়ডে বেশি কষ্ট । এছাড়া ভবিষ্যতে আবার অপারেশনে জটিলতা হতে পারে। এই কথাটা সচরাচর বলা হয় না, কারণ এটার সহজ টেস্ট নেই। সিজারের পর গ্যাস–অম্বল আজীবনের সঙ্গী হতে পারে কারণ: অপারেশনের সময় অন্ত্র নাড়া খায় অ্যানেস্থেসিয়া অন্ত্রের গতি কমায়, তাই অনেক মায়ের হয়: গ্যাস বুক জ্বালা কোষ্ঠকাঠিন্য পেট ফাঁপা , কিন্তু এটাকে বলা হয়— “ডেলিভারির পর নরমাল” । বারবার সিজার হলে জরায়ু দুর্বল হয় (সত্যি কথা) জরায়ুর দেয়াল পাতলা হয় ভবিষ্যতে রক্তক্ষরণ ঝুঁকি বাড়ে পরের প্রেগন্যান্সিতে বাড়তি সাবধানতা দরকার তাই “একবার সিজার মানেই সব সিজার”— এটা অর্ধসত্য, পুরো সত্য না। ইনজেকশনের ব্যথা অনেক সময় মনের ভয় বাড়ায় পেন কিলার এর কার্য্যকারিতা কমতে থাকলে ব্যথা হঠাৎ বাড়ে ,তখন অনেক মা ভাবেন— “আমার কিছু ভুল হচ্ছে” । আসলে: ওষুধের ইফেক্ট শেষ ভেতরের সেলাই টান দিচ্ছে এটা জানালে অর্ধেক ভয় এমনিই কমে যায়। সবচেয়ে বড় লুকানো সত্য: ডেলিভারির পর মায়ের যত্ন—আমাদের সমাজ দেয় না, সব নজর যায় বেবির দিকে মায়ের: ব্যথা মানসিক চাপ একাকীত্ব সব “স্বাভাবিক” বলে এড়িয়ে যাওয়া হয় কিন্তু অনেক মা এই সময় চুপচাপ ভেঙে পড়েন , তাহলে কী করবেন? নিজের ব্যথাকে অবহেলা করবেন না । “নরমাল” বললেও প্রশ্ন করবেন । ৪০ দিনের পরও ব্যথা থাকলে চেকআপ : শরীর + মন—দুটোরই ।








