বয়সটাকে উল্টে দিন

ডাঃ দেবাশীষ কুন্ডু

কার্যকর প্রতিভা নির্ভর করে সহজাত ক্ষমতা, শৈলীর অভ্যন্তরীণ বোধ এবং যে যুগে তাঁরা বাস করেন তার উপর। – অ্যালান কে (বিখ্যাত আমেরিকান বিজ্ঞানী)
সকলেই চান কার্যকর ভাবে আত্মনির্ভর ভাবে বাঁচতে , বার্ধক্য যেন আপনার কার্য্যক্ষমতাকে প্রভাবিত না করে , কিন্তু আদৌ কি সেটা সম্ভব?
প্রকৃতপক্ষে, বার্ধক্য সময়ের বাধ্যবাধকতা নয় বরং মনের অভ্যাস। যদি বার্ধক্য একটি স্বাভাবিক শাস্তি না হয়ে বছরের পর বছর পুনরাবৃত্তি করা একটি মানসিক পরামর্শ হয় ,আর যদি এই পরামর্শ টি পরিবর্তন করা যায়, এই মুহূর্ত থেকেই ! আমরা শৈশব থেকে শুনে আসছি বছর গড়ানোর সাথে সাথে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে , শক্তির হ্রাস পায় , স্মৃতি শক্তি ম্লান হয়ে যায় , এবং জীবন ধীরে ধীরে শূন্যে বিলীন হয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। সেই একই নিয়ম। আমরা এটি এতো স্বাভাবিক ভাবে গ্ৰহন করি , কিন্তু কোনোদিন কোনো প্রশ্ন করি না , যে এটা কি সত্য ? নাকি কেবল একটি বিশ্বাস ?? সাইকোলজির নিয়ম বলে, একজন ব্যক্তি বার বার যে চিন্তা ভাবনা গ্ৰহন করে অবশেষে সেটাই তার শরীর এবং জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম ও জীবন হয়ে ওঠে। মন চিন্তা করে না, মন কেবল আদেশ দেয় , এবং শরীর তা প্রশ্ন ছাড়াই মেনে চলে।
এখন এক মূহুর্তের জন্য নিজের জীবন কে বিবেচনা করুন । আপনি নিজেই বা অন্যদের কাছ থেকে এই বাক্যটি কতোবার শোনেন যে আমি এখন বৃদ্ধ, আমার বয়স বাড়ছে , কমছে না, পরিস্থিতি আর আগের মতো নেই, শরীর আর আগের মতো চলে না , ব্যার্থ হচ্ছে । মনে রাখবেন এগুলো কোনো শব্দ নয় , আপনার অবচেতন মনে বসানো নির্দেশ। এবং অবচেতন মন যুক্তি নেয় না, এটি বিশ্লেষণ করে না, এটি কেবল গ্ৰহন করে । মন হলো সেই ছাঁচ যার মধ্যে শরীর গড়ে ওঠে। যদি এই ছাঁচ টি প্রতিদিন পুনরাবৃত্তি করে , আমি বৃদ্ধ হচ্ছি , আমি দুর্বল হচ্ছি , আমি শুকিয়ে যাচ্ছি, আমার বয়স বাড়ছে, তাহলে আর কোনো বিকল্প নেই। তাহলে এখন কল্পনা করুন , এই একই মন এই একই অবচেতন ছাঁচ যদি প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে বিপরীত দিকে আদেশ দিতে শুরু করে ? আমি ফিরে যাচ্ছি, আমি আমার শক্তিতে ফিরে যাচ্ছি, আমি সেই অবস্থায় ফিরে যাচ্ছি যেখানে কোনো ক্লান্তি ছিল না,কোনো ভয় ছিল না , বয়সের কোনো বোঝা ছিল না, মনস্তাত্বিক দিক থেকে দেখতে গেলে যা অবচেতন মন আমাদের চেতনায় পাঠাবে তাই হবে। অর্থাৎ চেতনা যেখানেই যায় জীবন প্রবাহিত হয়।আর জীবন যেখানে প্রবাহিত হয় সেখানে দেহ পরিবর্তিত হয়। আমি এখানে কোনো কল্পনা বা অনুপ্রেরণা দায়ক কোনো অনুপ্রেরণা কথা বলছি না , একটি পরীক্ষা কথা বলছি, এটা আপনাকে বিশ্বাস করার দরকার নেই, শুধু আপনাকে করতে হবে।এই পরীক্ষায় কোনো ওষুধ , কোনো যোগ ব্যায়াম ভঙ্গি, কোনো ঘন্টার ধ্যান নেই । শুধু মাত্র ঘুমোতে যাওয়ার আগে আপনার বয়স কে পিছনের দিকে গণনা করুন । কারণ আমরা বয়স কে সর্বদা অগ্ৰসর হতে দেখেছি, কখনও পিছিয়ে যেতে দেখিনি। তবে মনে রাখবেন ইতিহাস কে বদলে দেওয়া জিনিস গুলো, বিজ্ঞান কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবিষ্কার গুলো , মানবতাকে সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করার অনুশীলন । সত্য সবসময় খুব সহজ , কিন্তু এটি প্রমাণ করার জন্য সাহস লাগে । জীবনে কখনো কখনো পরিবর্তন আসে বিশ্বাস থেকে নয় , অভিজ্ঞতা থেকে। যদি আপনি কেবল আপনার বয়স কে উল্টো করে গণনা করেন , তাহলে এটি আপনার শরীর , মন , এবং শক্তিকে কিভাবে প্রবাহিত করবে? এটি যাদু নয় , এটি মনের গভীরতম বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে , । কল্পনা করুন আপনার অবচেতন মন এমন একটি প্রোগ্রাম যা ২৪ ঘন্টা চলতে থাকে, সেটা আপনি জেগে থাকুন বা ঘুমিয়ে থাকুন , এটি কখনো বন্ধ হয় না , এটি যুক্তি খোঁজে না, এটি সঠিক না ভুল তা জিজ্ঞাসা করে না , এটি আপনি কেবল কোন চিন্তা ভাবনা গুলো ফেরৎ পাঠাচ্ছেন সেগুলো কে পর্যবেক্ষণ করে, এটি কেবল সেগুলো বার বার অনুভব করে। অবচেতন মন আবেগের ভাষা বোঝে , শব্দের নয় । আপনি আবেগের বশে যা কিছু পুনরাবৃত্তি করেন অবচেতন মন সেগুলো কে সত্য বলে গ্ৰহন করে । এবং এই সত্যটি তখন শরীরের প্রতিটি কোষে সঞ্চারিত হয় ।
এখন আমরা আমাদের স্বাভাবিক জীবনে কি করি সেদিকে মনোযোগ দিন , আমরা সর্বদা একটি সামনের গণনায় বাস করি , বয়স এগিয়ে যাচ্ছে , বছর এগিয়ে যাচ্ছে , সময় এগিয়ে যাচ্ছে , আর মন প্রতিদিন এক ই বার্তা পাঠায় , আমি এগিয়ে যাচ্ছি , আমি্ বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছি , আমি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি , যখন আপনি ১, ২, ৩, এমন করে এগিয়ে গুনছেন , তখন আপনি কেবল একটি সংখ্যা গুনছেন না , আপনি অবচেতন মন কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে দিকটি এগিয়ে যাচ্ছে ,, সময় এগিয়ে যাচ্ছে, শরীরের যাত্রা এগিয়ে যাচ্ছে , শরীরের যাত্রা ক্রমশঃ এগিয়ে চলেছে , ।
এবার যদি আপনি ৬০ ,৫৯,৫৮,৫৭,৫৬, এমন পিছনের দিকে উল্টো গণনা করেন তখন আপনি অবচেতনে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা সংকেত পাঠান , আপনি এটিকে থামতে , পিছনে ফিরে যেতে বলছেন , উৎসে ফিরে যেতে বলছেন , এখানেই একটা মনস্তাত্বিক দৃষ্টান্ত। ক্রিয়া যোগের মৌলিক নীতি হলো প্রান, যা জীবনী শক্তিকে বাহ্যিক ইন্দ্রিয় থেকে সরিয়ে মনের মধ্যে নিয়ে যাওয়া , কারণ প্রান যেখানেই যায় চেতনা অনুসরণ করে এবং চেতনা যেখানেই যায় শরীর পরিবর্তিত হয়। স্বাভাবিক জীবনে প্রান বাইরের থেকে প্রবাহিত হয় , চোখ থেকে দৃষ্টির দিকে কান থেকে শব্দের দিকে , আকাঙ্ক্ষা চাপ এবং উদ্বেগের দিকে। এই বাহ্যিক প্রবাহ ধীরে ধীরে প্রান কে হ্রাস করে , ক্লান্তি , বার্ধক্য এবং রোগ বা শরীর অসুস্থতা এই প্রবাহের ফলাফল। কিন্তু প্রান যখন ভিতরে ফিরে আসে , শক্তি মনের দিকে ও মস্তিষ্কের দিকে ফিরে আসে, তখন শরীর একটি নতুন আদেশ পায় , মেরামত পুনরুজ্জীবিত হোক , গণনা ঠিক তাই করে , এটি এখন খুব সহজ ভাষায় সচেতন কে বলে যে দিক পরিবর্তন হচ্ছে। নিরবিচ্ছিন্ন একটা ভিন্ন সিগন্যাল পায়। এখন এটি আর বাহ্যিক নয় বরং অভ্যন্তরীণ।
যখন প্রান শান্ত হয়ে ভিতরে ফিরে আসে , তখন শরীর আর সময়ের চাপ অনুভব করে না । এখন আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা বোঝা যায় , এতে আপনার যুক্তি বাদী মন ও সন্তুষ্ট হতে পারে। যখন আপনি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে উল্টো দিকে গণনা করেন , তখন মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বিটা তরঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসে , বিটা তরঙ্গ হলো দিনের ব্যাস্ত কার্য কলাপ , উদ্বেগ , এবং চিন্তা ভাবনার সাথে সম্পর্কিত। গণনা ধীর হওয়ার সাথে সাথে মন আলফা অবস্থায় প্রবেশ করে , যেখানে শরীর শীথিল হয় রক্তচাপ হ্রাস পায় , এবং মন শান্ত হতে শুরু করে এবং তারপর , আপনি ঘুমের কাছে যাওয়ার সাথে সাথে মস্তিষ্ক থিটা অবস্থায় প্রবেশ করে। থিটা হলো , সেই অবস্থা যেখানে অবচেতন মন সবচেয়ে উন্মুক্ত থাকে। এই অবস্থা যেখানে সম্মোহন কাজ করে , এই অবস্থা যেখানে গভীর অনুভূতি তৈরি হয় , এই সময় আপনি যাই পাঠান না কেন তা সরাসরি কোষে পৌঁছায় , শরীর প্যারাসিন্থেটিক মুড এ চলে যায় , অর্থাৎ কোষ গুলো নিজেদের মেরামত করতে শুরু করে । হরমোনের ভারসাম্য উন্নত হয়। প্রদাহ কমে যায় , শরীরকে শরীর কে সংকেত দেয় যে আর লড়াই করার প্রয়োজন নেই। সুস্থ হওয়ার সময় এসেছে। এখানেই প্লাসিবো প্রভাব শুরু হয়। কিন্তু মনে রাখবেন প্লাসিবো কোনো প্রতারণা নয় , এটি একটি বিশ্বাস যা শরীর কে রূপান্তরিত করতে পারে।
প্রাচীন কালে মুনি ঋষিরা অনেক আগেই এটি বুঝতে পেরেছিলেন , । এবং নিউরোপ্লাসটিসিটি মস্তিষ্কের নতুন অভ্যাস শেখার ক্ষমতা এই সময়ে তার শীর্ষে রয়েছে। কয়েক দশক ধরে যে অভ্যাস টি আপনি ধরে রেখেছেন , আমি বৃদ্ধ হচ্ছি, আমার বয়স হচ্ছে , শরীর ক্লান্ত নিস্তেজ অসুস্থ হয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে, , কিন্তু উল্টো টা যদি ভাবেন আমি ফিরে আসছি, আমি শক্তি তে ফিরে আসছি । বয়স কোনো ক্যালেন্ডার দিয়ে পরিমাপ করে না, এটি স্মৃতি দিয়ে বয়স পরিমাপ করে । কোষগুলোর নিজস্ব স্মৃতি রয়েছে , সেই স্মৃতি গুলোর রেকর্ড করে যে আমি কেমন অনুভব করেছি। আমি কিভাবে হাঁটছিলাম , আমি কতোটা উদ্যোমী ছিলাম , । শরীর স্মৃতি দিয়ে তৈরি, যখন স্মৃতি পরিবর্তন হয় , তখন শরীর পরিবর্তিত হয়, গণনা সেই স্মৃতির সাথে কথা বলে, ।এটি শরীরকে মনে করিয়ে দেয় আপনি কেবল ক্লান্তি জানেন না , আপনি কেবল বোঝা জানেন না , আপনি আরও কিছু জানেন , আপনি কি কখনো যৌবনের শক্তি অনুভব করেছেন? যখন এই স্মৃতি প্রতি রাতে পুনরাবৃত্তি হয় , তখন শরীরের কেবল একটি বিকল্প থাকে ,সেই স্মৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ।এই কারনেই এই কৌশলটি কাজ করে । এটি কোনো যাদুর কারণে নয় বরং এটি মন এবং জীবনের নিয়ম অনুসারে কাজ করে। এই কারণেই মহান আত্মারা বলেছিলেন মানুষ সময়ের দাস নয় বরং চেতনা সৃষ্টি করে।
কিভাবে পিছন দিকে গণনা করতে হয়? কতক্ষণ পিছন দিকে গণনা করতে হয়? এবং কোন সূক্ষ্ম বিবরণ মনে রাখতে হয় যাতে এই পরীক্ষা টি আপনার জীবনকে সত্যি কারের অর্থে রূপান্তরিত করতে পারে।
এটি কোনো সাধারণ শয়ন কালীন আচার নয়, এটি তোমার মন, শরীর এবং অবচেতনের সাথে একটি শান্ত ব্যাক্তিগত কথোপকথন। এবং এই কথোপকথনের জন্য পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
প্রথম ধাপ হলো প্রস্তুতি, মনে রাখবেন , পরিবেশ শান্ত না হলে চেতনা গভীর হয় না। তাই ঘুমোতে যাওয়ার আগে ধীরে ধীরে নিজেকে পারিপার্শ্বিক সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে , মোবাইল ফোন, টিভি , ল্যাপটপ বন্ধ করে দিতে হবে। পর্দার আলো অবচেতন কে ব্যাহত করে , এটি আমাদের বাইরের জগতের সাথে সংযুক্ত রাখে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এবার আমাদের ভিতরে নামতে হবে বা প্রবেশ করতে হবে । ঘরের আলো মৃদু রাখুন , এখন আপনার অবস্থান বেছে নিন আপনি উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে পারেন আবার শবাশনে শুয়ে থাকতে পারেন ,বা আরামে বসতে পারেন । আপনার পিঠ শীথিল রাখুন। শরীর কে উত্তেজনা মুক্ত রাখুন । এই মুহূর্তে মনে একটা অনুভুতি আনুন, ‘এখন আমি আমার শরীর কে আদেশ দিচ্ছি না , এখন আমি এর সাথে যোগাযোগ করতে যাচ্ছি’। মনে রাখবেন, শরীর ও কিন্তু শোনে, একমাত্র যা করা উচিত , তা হলো শান্ত থাকা, তাই তাড়াহুড়ো নয় । লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাড়াহুড়ো নয়, কেবল উপস্থিতি।
এখন দ্বিতীয় পর্বে আসে শিথীলতা আপনি সারাদিন যা কিছু করেছেন , চিন্তা করেছেন , এবং যা কিছু অনুভব করেছেন তা ছেড়ে দিন । ধীরে ধীরে আপনার পায়ের দিকে মনোযোগ দিন , বিছানায় ডুবে যাওয়ার ভার অনুভব করুন, এরপর আপনার হাঁটুতে মনোযোগ দিন , তারপর উরুতে , তারপর পেট এবং ধীরে ধীরে বুকে , এবার নিঃশ্বাসের সাথে সাথে অনুভব করুন ভিতরে জমে থাকা ক্লান্তি গলে গেছে। এবার আপনার কাঁধ শিথিল করুন , মুখের পেশী গুলো কে নরম হতে দাও । তোমার চোখের পিছনে জমে থাকা উত্তেজনা নিঃশ্বাসের সাথে সাথে ছেড়ে দিন। জেনে রাখুন, যখন শরীর শিথিল হয় তখন প্রান স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিতরে ফিরে আসে। এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ শিথিলতা ছাড়া অবচেতন মন গভীরভাবে খুলতে পারে না।
এখন তৃতীয় অর্থাৎ সবচেয়ে শক্তিশালী ধাপ ; এখন আপনি অবচেতন মন কে সরাসরি আদেশ দিতে চলেছেন। কিন্তু আদেশ টি কঠোর হবে না , এটি হবে মৃদু। বিশ্বাসে ভরা। খুব নৈমিত্তিক স্বরে নিজেকে বলুন ; ‘আমার বয়স ২৫ বছর, আমি প্রাণশক্তিতে ভরপুর, ক্লান্তিহীন অবসাদহীন’ , কোনো জোর দিয়ে নয়, শুধু একটি গ্ৰহন যোগ্যতা । কল্পনা করুন আপনার বর্তমান বয়স ২৫ বছর, তারপর নিজেকে বলো আমার বয়স ২৪ বছর , তারপর কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়ার পর নিজেকে বলুন আমার বয়স ২৩ বছর , তারপর বলুন আমার বয়স ২২ বছর এটা কোনো তাড়াহুড়োর দরকার নেই একটু বিরতি দিয়ে বলুন যাতে অবচেতন মন তা অনুভব করতে পারে, প্রথমে সে মানতেই চাইবে না, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আপনি বয়স বাড়ার কাঠামো বা নকসা অবচেতন মনে বিছিয়ে রেখেছেন , তাই যখন আপনি চাইবেন ঐ কাঠামো কে মুছে ফেলে নতুন নক্সা তৈরি করে সেখানে প্রতিষ্ঠিত করতে , তাই খুব ধীরে ধীরে বলতে হবে অবচেতন মন যেন তা অনুভব করতে পারে। এটাই মূল কথা। ঠিক ২১ টি সংখ্যায় ফিরে যান । এই ২১ সংখ্যা একটা সীমা। অভ্যাস তৈরি হয় ২১ দিনে। কারণ যোগ বা মনোবল তৈরি হয় এই ২১ দিনে। ২১টি মূল স্নায়বিক পদ সক্রিয় হয়। এবং এই ২১ বছর বয়সেই অবচেতন মন নতুন ভাষা গ্ৰহন করতে শুরু করে।
পরবর্তী পর্যায়ে উপলব্ধি এবং দৃশ্যায়ন, এখানে আপনাকে বুঝতে হবে আপনি কল্পনা করছেন না , আপনি স্মৃতি থেকে কথা বলছেন। প্রতিটি সংখ্যার সাথে সেই বয়সের সংবেদন গুলো কে আহ্বান করুন । শরীরে লঘুতা , ত্বকে সতেজতা , চোখে উজ্জ্বলতা এবং মনের মধ্যে একটি স্বাভাবিক উৎসাহ। যদি খেলা হাসি , হাঁটার কোনো দৃশ্য স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে উঠে আসে , তবে তা থামাবেন না, এমনকি যদি আপনি কিছু না দেখেন সেটা আবার চিন্তা করতে যাবেন না। চিন্তার থেকে অনুভূতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন আপনি যা অনুভব করেন তা হলো প্রার্থনা। তাই অনুভূতি কে প্রাধান্য দিন। চিত্র কে নয়। এখানে আপনার আর কিছু করার দরকার নেই আপনি যখন ৬০ থেকে একেবারে ২১ বছরে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন তখন বলুন আমার শরীর, মন এবং আত্মা এই যৌবনের শক্তি গ্ৰহন করছে। আমি নবায়িত। আমি চেতনা। এই অনুভূতি অবচেতনের কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য। এবং এখন সেই অনুভূতিতেই নিজেকে ঘুমিয়ে পড়তে দিন। কোনো প্রচেষ্টা নেই , কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কারণ ঘুমের প্রান্তে গভীরতম ছাপ তৈরি হয়। সেই মূহূর্তে অহম্ ঘুমিয়ে থাকে , আত্মা জাগ্ৰত থাকে। যদি আপনার মন ঘুরে বেড়ায় তবে নিজেকে তিরষ্কার করবেন না , আলতোভাবে একটি সংখ্যায় ফিরে যান । মনে রাখবেন আপনি কয়েক দশকের একটি নক্সা বা অভ্যাস বা কাঠামো পরিবর্তন করছেন। অনুশীলন কোনো সংগ্ৰাম শেখায় না এটি স্মরণ শেখায়।
এবার আপনাকে বলবো যাতে আপনি বুঝতে পারবেন এই পরিবর্তন ৭ দিন , ১৪ দিন এবং ২১ দিন , এই প্রক্রিয়াটি ভিতরে কাজ করছে । এখন আমরা সেই অংশে পৌঁছেছি কারণ বেশিরভাগ মানুষ ই কৌতুহলী । অনেকেই বলবে ঠিক আছে আমি এই অনুশীলন করবো কারণ মন স্বাভাবিক ভাবেই অনুশীলন করে। কিন্তু কিভাবে জানবো যে পরিবর্তন হচ্ছে। এই প্রশ্ন টি ভুল নয়। কারণ আধ্যাত্মিক অনুশীলন কেবল বিশ্বাসের মাধ্যমে নয় , অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা যায়। এই রূপান্তর হঠাৎ করে বিস্ফোরিত হবে না , অলৌকিক ঘটনার মতো। এটা ঠিক যেমন ধীরে ধীরে আলো নেমে আসে , আপনি বুঝতেও পারেন না কিভাবে ধীরে ধীরে অন্ধকার কে পিছনে ফেলে দেওয়া হয়। এটা ধৈর্য্য এবং ভালোবাসার মাধ্যমে ঘটে।সেই কারনেই এটা ভিতর থেকে শুরু হবে। তারপর এর প্রভাব বাইরে থেকে দৃশ্যমান হবে। আপনার প্রথম পরিবর্তন ঘুমের মধ্যে হবে, ঘুমের সময় আপনি দেখতে পাবেন , মন কম বিচলিত হচ্ছে, কম ঘোরাফেরা করছে , ঘুম আরো গভীর হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠলে
মন হালকা লাগবে, সতেজতা অনুভব করবে। যেন মন থেকে কোন বোঝা নেমে গেছে। জীবনীশক্তি যখন সঠিক দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে তখন ঘুম পূনঃজ্জীবনে পরিণত হয় । ৭ দিন পর এটা আরও স্পষ্ট হয় । ঘুম থেকে ওঠার পর তোমার যে কোনো কারণ ছাড়াই পুরানো ক্লান্তি ছিল তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। আপনার চোখে একটা আলাদা উজ্জ্বলতা দেখা দেয়। ত্বক আর্দ্র এবং সতেজ বোধ করে। যেন ভিতর থেকে পরিপূর্ণ । মানসিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। সিদ্ধান্ত গ্ৰহন সহজ হয় , মানসিক চিন্তা ভাবনা গুলো কম জট পাকায়।মনে রাখবেন মন যখন শান্ত থাকে তখন শরীর তার স্বাভাবিক স্বাস্থ্যে ফিরে আসতে শুরু করে। ১৪ দিন পর বাইরের জগতে সাড়া দেয় , লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞেস করবে আপনি কি বিশ্রামে ছিলেন । আপনাকে একটু আলাদা লাগছে। এটি শুনে হাসুন কারণ আপনার এবার অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন গুলো বাইরের দিকে ফুটে উঠেছে। মানসিক প্রতিফলতা বৃদ্ধি পায়। মনে রাখবেন মানসিক ভারসাম্যই হলো প্রকৃত যৌবন শক্তির ভিত্তি। ২১ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিবর্তন গুলো আরো গভীর হয়। সময় কেবল একটা প্রবাহে পরিণত হয়। তাই হাসুন খেলুন আর এই প্রক্রিয়া টি সারাজীবন সুস্থ থাকতে , সতেজ থাকতে , বয়সের ভার না বুঝতে পারা, আর যৌবন ধরে রাখতে আজ থেকেই শুরু করুন।

মন্তব্য করুন